logo

বাসে উচ্চ স্বরে গল্প করায় সংঘর্ষ, ইবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বাসে উচ্চ স্বরে গল্প করায় সংঘর্ষ, ইবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ইবিতে সংঘর্ষে জড়ায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে উচ্চ স্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে মারামারির জেরে বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র-উপদেষ্টার জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— বাংলা বিভাগে মেহেদী (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ), আব্দুর রউফ (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) ও মোসাব্বির হোসেন (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)। এছাড়া ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলা বিভাগ।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চ স্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় এবং আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে উভয়েই আহত হন। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রক্টর অফিসে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা হয়। সভায় গতকালের ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। উভয় পক্ষ পরস্পরকে ক্ষমা করে দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে সভা শেষে শিক্ষকরা বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনায় আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান এবং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও সহকারী প্রক্টর আব্দুল বারীও হেনস্তার শিকার হন। পরে আহত আবু সাইদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে তারা তালা খুলে দেন। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন।

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আলোচনার পর আমরা সমঝোতায় সম্মত হয়ে প্রক্টর অফিস থেকে বের হচ্ছিলাম। এ সময় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তখন আমাদের সঙ্গে আটজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। তারা অনেকজন ছিলেন।

অন্যদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আলোচনা শেষে আমরা সবাই প্রক্টর অফিস থেকে নিচে আসছিলাম। তখন উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। এসময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শিক্ষকরাও এটা ট্যাকল করতে পারেননি।

এদিকে ঘটনার কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত, শাস্তি নির্ধারণের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দকে। সদস্যরা হলেন— ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ, পরিবহন প্রশাসক ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং সহকারী প্রক্টর মো. জাকির হোসেন। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার মো. সালাউদ্দিন মোল্লাকে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির সুপারিশ করতে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলা বিভাগ কর্তৃপক্ষ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ, অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, অধ্যাপক গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মো. রবিউল হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে, বাংলা বিভাগ তা মেনে নেবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা জরুরি ভিত্তিতে মিটিং করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তার সঙ্গে একমত থাকব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বদিউজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, মেডিকেলে একজন অজ্ঞান অবস্থায় এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।