logo
Advertisement

প্রিয়জনের চিঠি আসে না শাবিপ্রবির ডাকবাক্সে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, শাবিপ্রবি
প্রিয়জনের চিঠি আসে না শাবিপ্রবির ডাকবাক্সে
শাবিপ্রবি পোস্ট অফিস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস আজ। একসময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পোস্ট অফিসের ডাকবাক্সে জমতো অসংখ্য চিঠি। সময়ের আবর্তনে এবং আধুনিক প্রযুক্তির আলোয় হারিয়ে গেছে প্রিয়জনের কাঁচা হাতে লেখা সেই চিঠির দিন। ডাকবাক্সটি আজ পড়ে আছে কেবলই নিঃসঙ্গতায়।

Advertisement

ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কাছে একসময় যোগাযোগের ভরসা ছিল ডাকঘরের লাল বাক্স। প্রহর গুনে অপেক্ষা করতেন তারা। এখন আর জমে না প্রিয়জনের চিঠি। জমা পড়ে অফিসিয়াল কাগজপত্র। নেট প্রজন্মের আগের শিক্ষার্থীদের কাছে বাক্সটি এখন শুধুই স্মৃতি।

শাবিপ্রবির পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাকপিয়ন মো. মাহতাব উদ্দিন জানান, ১৯৯২ সালের ১ জুলাই শাবিপ্রবি পোস্ট অফিসের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন অসংখ্য চিঠি আসত। এখন ব্যক্তিগত চিঠি প্রায় আসে না বললেই চলে। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল চিঠিপত্র জমা পড়ে নিয়মিত।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, চিঠি আদান-প্রদানের সেই আন্তরিকতা আর আবেগ যদি ফিরত, তবে যোগাযোগের এক ভিন্ন আবহ সৃষ্টি হতো। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি সেই সোনালি দিনগুলো কেড়ে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুরে জান্নাত বলেন, ডাকবাক্সটা ছিল অনুভূতির জানালা। দূরে অবস্থান করা আপনজনের হাতে লেখা চিঠি এসে মন ভরাত। এখন বাক্সটা দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে, নেই কোনো অপেক্ষার উত্তেজনা। প্রযুক্তি যোগাযোগ সহজ করেছে বটে, কিন্তু চিঠির কাগজের ছোঁয়া আর পাওয়া যায় না। বাক্সটা এখন কেবল ঝুলে আছে স্মৃতি হয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রায়হান তালুকদার বলেন, চিঠি সবার কাছেই আবেগের বিষয়। বইয়ে চিঠি লেখার নিয়ম শেখা হলেও বাস্তবে কোনো দিন কাউকে চিঠি লেখা হয়নি। মোবাইল, ইন্টারনেট আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই এখন যোগাযোগের প্রধান ভরসা। চিঠির দিনের গল্পগুলো আমাদের মধ্যে আজও অন্যরকম অনুভূতি জাগায়।