logo

ছিনতাই নাকি অপ্রতিমের মায়ের ওপর প্রতিশোধ, উঠছে প্রশ্ন

ছিনতাই নাকি অপ্রতিমের মায়ের ওপর প্রতিশোধ, উঠছে প্রশ্ন
মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। ছবি : ফেসবুক থেকে পাওয়া

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোরকে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার (শীলা) তদন্তের দাবি জানান।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী অভিযানে তৎকালীন প্রক্টরিয়াল বডি সাতজন কিশোরকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ড. নাহিদা বেগম। ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আড্ডা ও মাদকসেবনের তৎপরতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত তৎপরতা নিয়ন্ত্রণেও ড. নাহিদা বেগম সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।

মানববন্ধনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার। ছবি : এশিয়া পোস্ট
মানববন্ধনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

এ অবস্থায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। অপ্রতিমের সঙ্গে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্বপরিচয় বা সম্পর্কের ধরন কী ছিল? ২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক কিশোরদের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না? আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো বিরোধ বা প্রতিশোধের বিষয় জড়িত ছিল?

এ বিষয়ে ড. কামরুন নাহার (শীলা) বলেন, তিনি ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে নাহিদা বেগম কয়েকজন কিশোরকে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ড. কামরুন নাহার বলেন, নাহিদা ম্যামের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি চান, তার সন্তানের হত্যার সূত্র উদ্‌ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক। ২০২৫ সালে তিনি যখন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেন, তখন কয়েকজন কিশোরকে মাদক সেবনরত অবস্থায় ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও দেখা দরকার।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে রাষ্ট্রের আইন সংস্কার করেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে ২০২৫ সালের ওই মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র ও তদন্তের প্রশ্ন হিসেবেই রয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি তার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।