logo
Advertisement

নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জাবি
নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি
ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী হলগুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল ও আবাসিক জীবন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। একই সঙ্গে ‘সান্ধ্য আইন’, অসঙ্গতিপূর্ণ আবাসিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি অদ্রি অংকুর ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট থেকে জাহানারা ইমাম হল প্রশাসনের রাত ১১টার মধ্যে হলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা, রাত ১১টার পর হল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং মূল ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণের বহিঃপ্রকাশ। একইভাবে, গত ১৮ আগস্ট প্রীতিলতা হল প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে প্রাধ্যক্ষকে অবহিত না করে কোনো আবাসিক শিক্ষার্থীর কক্ষে রাতে অতিথি অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, প্রীতিলতা হলে দীর্ঘদিন ধরে রাত ১০টার পর প্রবেশ ও হল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ক্লাসে উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে থাকলে পরীক্ষার ফরমে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টালবাহানার অভিযোগও রয়েছে।

বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত জ্ঞানচর্চা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সমান নাগরিক মর্যাদার স্থান। নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার পরিবর্তে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, কার্যকর টহলব্যবস্থা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রী হলে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অযৌক্তিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। কোনো হলে রাত ১০টার পর বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা, কোথাও উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা এবং কোথাও গেট বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। একটি হলে চালু হওয়া নিয়ন্ত্রণমূলক নিয়ম পরবর্তীতে অন্য হলগুলোতেও প্রয়োগের প্রবণতা রয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ধরনের চলাচলনীতি চালু করাও সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে সংগঠনটি জাহানারা ইমাম হলের রাত ১১টায় গেট বন্ধের নির্দেশনা প্রত্যাহার, প্রীতিলতা হলসহ সব ছাত্রী হলে অযৌক্তিক আবাসিক বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার এবং বিদ্যমান ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবি জানায়। পাশাপাশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর সমান চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাস ও আবাসিক এলাকায় ২৪ ঘণ্টা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করে নিরাপত্তার নামে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে নারী শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।