চবিতে সিন্ডিকেট সভার বিরুদ্ধে সাদা দলের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) সিন্ডিকেটে অধ্যাপক ক্যাটাগরির নির্বাচিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষকদের সাদা দল।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভার আগে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছারুল করিমের নেতৃত্বে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়ে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় সিন্ডিকেট সভা বন্ধের দাবি জানান সাদা দলের সদস্যরা।
দলের অন্তর্বর্তীকালীন স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শাহাদাত হোছাইন জানান, সাদা দলের প্রতিনিধিরা সিন্ডিকেট সভাপতির নিকট আবেদন নিয়ে যান যেন অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে সভায় অন্তর্ভুক্ত করেন অথবা আদালতের রিটের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত সভা স্থগিত রাখা হয়।
ড. শাহাদাত হোছাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আজ আপনার আহ্বানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, সিন্ডিকেটে প্রফেসর ক্যাটাগরির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আপনার এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, আজকের সভা স্থগিত করুন অথবা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করে সিন্ডিকেট সভা সম্পন্ন করুন। এ দুটির কোনটিই যদি না করেন, তাতে প্রতীয়মান হবে আপনি দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এমন দলীয় চিন্তা লালন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে শিক্ষকগণ আপনার পাশে থাকবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে-যার পুরো দায় আপনাকে বহন করতে হবে।
জানা গেছে, অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের সিন্ডিকেট সদস্যপদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের আইনি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টকে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
বিষয়টি উল্লেখ করে সাদা দলের চিঠিতে বলা হয়, বিতর্কের আইনি নিষ্পত্তির পর সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যুক্তিযুক্ত ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সিন্ডিকেটের যে সংবিধিবদ্ধতা ও পরিপূর্ণতার বিষয় রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। শুধু অল্প কয়েকজন সদস্য নিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালনা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রয়োগের ব্যত্যয়।
প্রফেসর ড. শাহাদাত হোছাইন জানান, সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করা হয়নি। দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার আছে, এখনও যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় আধিপত্য চলমান থাকে তাহলে এটার ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। বর্তমান সিন্ডিকেট সভার অনেকগুলো পদ খালি, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা ফেরানোর দাবি জানাই।



