ক্যানসারে আক্রান্ত রাবি কর্মীর স্ত্রীর পাশে ছাত্রদল কর্মী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজয়-২৪ হলের ক্যানটিন কর্মী রিপন শেখের স্ত্রী লিপি খাতুনের ক্যানসারের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কর্মী শাকিল দেওয়ান।
নিজের পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করেছেন তিনি। পাশাপাশি অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসাতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
রিপন শেখ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ক্যানটিনে কর্মরত। স্বল্প আয় দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে রাজশাহী নগরীর কাটাখালি এলাকায় বসবাস করেন তিনি। প্রায় এক মাস আগে তার স্ত্রী লিপি খাতুনের জরায়ু ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন হলেও অর্থের সংকটে তা করাতে পারছিলেন না রিপন।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, বর্তমানে লিপি খাতুন ঢাকার মিরপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার অপারেশনের জন্য প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন।
রিপন শেখ বলেন, প্রায় এক মাস ধরে আমার স্ত্রী জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত। কিন্তু টাকার অভাবে অপারেশন করাতে পারছিলাম না। শাকিল মামা নিজে এবং অন্যদের কাছ থেকে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সহযোগিতা করবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তারা টাকা দিলে আমার স্ত্রীর অপারেশন করাব।
তিনি আরও বলেন, শাকিল মামারা আমার পাশে থাকায় আমি সাহস পাচ্ছি। অপারেশনের পরও যদি টাকা-পয়সার প্রয়োজন হয়, তখনও সহযোগিতা করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আল্লাহ মামাদের ভালো রাখুক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রদলকর্মী শাকিল দেওয়ান বলেন, হঠাৎ একদিন জানতে পারি, বিজয়-২৪ হলের ক্যানটিনের কর্মচারী রিপন ভাইয়ের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি রিপন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং আমার বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করি। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল।
শাকিল দেওয়ান আরও বলেন, কিছুদিন পর জানতে পারি, সবার সহযোগিতা পাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি থাকায় তার অপারেশনটি আটকে আছে। একজন মানুষের জীবন ও চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই পরবর্তীতে আমি তার অপারেশনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
তিনি আরও জানান, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। রিপন ভাইয়ের স্ত্রীর চিকিৎসা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, আমার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। অপারেশনের পরও প্রয়োজন হলে তার চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।


