logo
Advertisement

বাধ্য হয়েই রুয়েট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে: মাইশা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,রুয়েট

বাধ্য হয়েই রুয়েট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে: মাইশা
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: গণমাধ্যম থেকে নেওয়া

বাধ্য হয়েই রুয়েট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আর্কিটেকচার বিভাগের ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী মাইশা মোর্শেদ কথা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি তার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে মাইশা বলেন, আর্কিটেকচার কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না আমার কাছে, এটি ছিল প্যাশন ও স্বপ্ন। কিন্তু সব স্বপ্ন হয়ত পূরণ হয় না। যেখানে ন্যূনতম কমফোর্ট, রেসপেক্ট ও পিস অব মাইন্ড পাওয়া যায় না, সেখানে টিকে থাকা কঠিন।

তিনি আরও জানান, আর্কিটেকচার অনুষদের সিস্টেম অন্যান্য বিভাগের চেয়ে কিছুটা আলাদা। প্রায় সবকিছুই চেইন সিস্টেম বা আমলা-কামলা প্রথায় পরিচালিত হয়। চেইনে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে নানা কটূক্তি ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে। নিজের চেইনের মানুষের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের সাপোর্ট পাননি। চেইনের কাজের অংশ হিসেবে অন্যদের বাসায় রাতে থাকার (নাইট স্টে) যে নিয়ম ছিল, তা তার পরিবারের কাছে নিরাপদ বা গ্রহণযোগ্য ছিল না।

পোস্টে মাইশা অভিযোগ করেন, রুয়েট কাগজে-কলমে র‍্যাগিং-মুক্ত হলেও কিছু সিনিয়রদের অযাচিত আচরণ অ্যাকাডেমিক কাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ক্লাস এবং ক্যাম্পাসে খাওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়।

‎তিনি আরও জানান, তাকে এমন বিষয়ের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল যা তিনি করেননি। বিষয়টি নিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। একপর্যায়ে বয়কট করারও চেষ্টা করা হয় তাকে।

‎মাইশা আরও জানান, রুয়েটের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই, তবে নিজের মানসিক শান্তির জন্যই তাকে বাধ্য হয়ে স্বপ্নের বিষয় আর্কিটেকচারকে বিদায় জানাতে হয়েছে।

‎আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাব্বির আহসান এশিয়া পোস্টকে জানান, এ বিষয়ে আমিও জেনেছি কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগে এমন কোনো অভিযোগ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন আছে। কেউ অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে মানসিক চাপে রাখা অবশ্যই গর্হিত কাজ। তদন্তের জন্য আমরা সভার আয়োজন করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ সমস্যা সমাধান করা হবে।

বিষয় :