logo
Advertisement

ইবিতে শিবির নেতাকে চড়, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,ইবি
ইবিতে শিবির নেতাকে চড়, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারে র‍্যাব ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

কমিটিতে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরিফ ও ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্থানীয় জামায়াতকর্মী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শহীদুল ও বাবুল নামে দুই জামায়াতকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় কোপ দেওয়া হয়। পরে আহতদের হরিনারায়ণপুর চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় প্রক্টর কার্যালয়ে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সমঝোতার পরও স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে শোডাউন দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়, লালন শাহ হলের পকেট গেট ও আজিজ হলের পকেট গেটে অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

সমঝোতা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, হলে রেইড পরিচালনা ও বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং আবাসিক হলে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেনকে চড় মারেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য আলীনূর রহমান। জুহায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এবং আলীনূর আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। চড় মারার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রশিবিরের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়া হলে আসেন। সেখানে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আলীনূর হলটির ২১টির নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন।

বিষয়টি সমাধানের জন্য পরবর্তীতে জিয়া হলের প্রভোস্টের কক্ষে বৈঠকে বসেন ভুক্তভোগী জুহায়ের, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিম রেজা, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন ও সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।

বৈঠক চলাকালে কক্ষের বাইরে শিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আলোচনার সময় অভিযুক্ত আলীনূরকে বৈঠকে উপস্থিত করার দাবি জানান জুহায়ের। তবে প্রক্টরিয়াল বডি আলীনূরকে আনতে গেলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আলীনূর ভেতরে থাকা কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় তাকে বের করা সম্ভব হয়নি।

আলীনূরকে হাজির করতে না পারা এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতারা বৈঠক ত্যাগ করেন। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় আলীনূরকে হল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সে সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা আলীনূরকে মারধর করেন এবং প্রক্টরের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে ফটকটি বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেন বলেন, আপাতত সমঝোতা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সে অপেক্ষায় আছি।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দিলে আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সঙ্গে আমার পূর্বে কোনো শত্রুতা ছিল না।

ঘটনার বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, সবাই বসে সমঝোতা হয়েছে। বাকিটা প্রশাসন দেখবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আপাতত পরিস্থিতি সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন, অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন, হলের গেট বন্ধ, বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং মেধার ভিত্তিতে সিট দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, খুবই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক এ ঘটনাটি ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টর, স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার ও উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিষয় :