বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: নুর

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নুরুল হক নুর বলেন, ছয় মাসের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছেন একটা এলএনজি’র টার্মিনালে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে গ্যাস সাপ্লাই কমে গিয়েছে। এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিন এই ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাট এবং ভুল নীতিগত পলিসির কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের অনুসন্ধান করা হয়নি।
সরকার নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দ বাড়িয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান তো এক মাসেই গ্যাস উত্তোলন করতে পারবে না। গ্যাস যদি কূপ খুঁজে পায়, সেটি আহরণ করার জন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এগোতেও সময় লাগে। ভারত থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি এনে দ্রুত সময়ে এই সমস্যা চাইলে আমরা সমাধান করতে পারি, কিন্তু তাই বলে ভারতের কাছে তো আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে আমরা বিকিয়ে দিতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী সেটা করেননি।
নুরুল হক নুর বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্যেকটি জেলা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর এবং অনেক উপজেলায় ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ভাষাসহ নানা ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
শিক্ষিত ও বেকার তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভাষার কোর্স ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি তরুণদের বিদেশে ভালো কর্মসংস্থান ও ব্যাংক সহায়তার সুযোগ সুগম করবে।
কবি নজরুল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদ যখন ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, তখন আমরা দেখেছি অনেকেই গুপ্ত ছিল, তাদের পরিচয় গোপন ছিল। কিন্তু ছাত্র অধিকার পরিষদ এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে কখনও গুপ্ত হওয়ার চিন্তাভাবনা করেনি, কখনও পরিচয় গোপন করার চিন্তা করেনি। বরং পরিচয় ওপেন করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা গত দুই দিন আগে দেখেছি কুষ্টিয়াতে আমাদের গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর জামায়াত-শিবির কীভাবে হামলা করেছে। আমি অবাক হয়েছি, এই জামায়াত-শিবির হামলা করার পূর্বে নারায়ে তাকবির তাকবীর স্লোগান দিয়েছিল। আমার আশঙ্কা হয়, আওয়ামী লীগ যেমন একটি উগ্রবাদী সংগঠন, তেমনি জামায়াত-শিবিরও একটি উগ্রবাদী সংগঠন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যখন মজলুম ছিলেন, তখন আমরা আপনাদের পক্ষে কথা বলছি। আপনারা গণ-অভ্যুত্থানের পরে ইউনূস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে আপনারা জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা পেশিশক্তি প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা করতে চায়, ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, গুপ্তগিরি করে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি করতে চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদেরকে লাল কার্ড প্রদর্শন করবে। জুলাই অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী যে রাজনীতি ছিল ঘন ঘন গেস্টরুমে নির্যাতন, সেই রাজনীতি আর ক্যাম্পাসগুলোতে আমরা ফিরে আসতে দেব না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা প্রমুখ।



