Advertisement

সকালের নাস্তা ছাড়াই ক্লাসে বাকৃবির ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাকৃবি
সকালের নাস্তা ছাড়াই ক্লাসে বাকৃবির ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও লোগো। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পরিচালিত এক জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রায় ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাস্তা না করেই ক্লাসে অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ সপ্তাহের সাত দিনই নিয়মিত সকালের নাস্তা করেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের মধ্যে সকালে ফল খাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি প্রায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছাত্রী নিয়মিত ফল গ্রহণ করেন। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এসব তথ্য তুলে ধরেন বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। বাকৃবির শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছিলেন ছাত্র এবং ৪১ শতাংশ ছাত্রী।

মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীদের সকালের নাস্তা না করেই সরাসরি দুপুরের খাবার খাওয়ার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।

শুধু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে টানা ক্লাস পরিচালিত হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হন বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রবণতার পেছনে জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক গোলজার হোসেন বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাত ১টা–২টার আগে ঘুমাতে যান না; কেউ কেউ রাত ৩টা–৪টা পর্যন্ত জেগে থাকেন। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে সতেজভাবে সকাল ৮টার ক্লাসে উপস্থিত হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক গোলজার হোসেনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষদেই শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য মানসম্মত ক্যান্টিন বা স্বাস্থ্যকর খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্লাসের ফাঁকে দ্রুত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও সীমিত। এর সাথে তিনি ক্লাস সূচিকেও দায়ী করেন।

শিক্ষার্থীদের রাত জাগার অভ্যাস কমিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদে মানসম্মত ক্যান্টিন বা স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা এবং অন্তত প্রতি দুইটি ক্লাসের পর ১০ মিনিটের বিরতি নিশ্চিত করাকে এর সমাধান বলে মনে করেন তিনি। এতে শিক্ষার্থীরা নাস্তা বা হালকা খাবার গ্রহণের পাশাপাশি কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারবেন, যা তাদের স্বাস্থ্য ও পাঠদানে মনোযোগ। উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।