অপ্রতিমকে হারানোর এক মাস, দ্রুত বিচার চান মা–বাবা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়েছে। সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা। এখন তাদের একমাত্র চাওয়া, ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদেরকে অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের পুরোটা অস্তিত্ব জুড়ে ছেলেটা। তাকে নিয়ে আমার আর নাহিদার সব স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ছেলেটা নেই এক মাস হলো। অপ্রতিমকে ছাড়া পৃথিবীটা বড্ড শূন্য লাগছে। কীভাবে বাকিটা জীবন কাটাব, নিজেও জানি না।
অপ্রতিমের মৃত্যুর পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তার মা নাহিদা বেগম। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলেন না তিনি। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর কুমিল্লা ছেড়ে ঢাকায় বোনের বাসায় চলে যান নাহিদা। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর কিছুটা ঘুমাতে ও খেতে পারলেও ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাদের পুরো পৃথিবী যেন হারিয়ে গেছে। স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না তিনিও। ফোনে কথা বলতে গেলেও তাদের চোখের সামনে অপ্রতিমের ছবি ভেসে ওঠে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে তিনজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন এবং একজন সহযোগিতা করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন কিশোর। তবে তাদের বয়স নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে অপ্রতিমের পরিবার। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছিলেন পরিবারের সদস্য ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
তবে এখন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই পরিবারের প্রধান অগ্রাধিকার। ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, পুলিশ তাদের জানিয়েছে, দুই-তিন দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের হাতে এসেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
