রুয়েট শিক্ষার্থীকে বাসে যৌন হয়রানি, স্টাফ চাকরিচ্যুত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক নারী শিক্ষার্থীকে বাস যাত্রায় হেনস্তার অভিযোগে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের স্টাফ মো. দেলোয়ারকে (২৭) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার টেকনিক্যাল মোড় থেকে থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাসে যাত্রা করেন রুয়েটের ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী। যাত্রাপথে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে বাসটির গাইড দেলোয়ার তার দিকে বারবার আপত্তিকর দৃষ্টিতে তাকান। এছাড়াও কয়েক দফায় শরীরে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এমনকি রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত হোয়াটাসঅ্যাপ নম্বরে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের স্টাফ বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য ও বার্তা পাঠান বলে জানা যায়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রাজশাহীর শিরোইল বাস কাউন্টারে গিয়ে ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, কাউন্টারে উপস্থিত সহকারী পরিচালক ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান শিক্ষার্থী।
কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর গাইড দেলোয়ার ও ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজশাহীর মতিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত মো. দেলোয়ার হোসেন রাজশাহীর জেলার পুঠিয়া থানার ভূবননগর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে। এদিকে, অভিযোগের পর ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সটাফ দেলোয়ারকে চাকরিচ্যুত করেছে মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থী বলেন, সড়কপথে যাত্রীদের সঙ্গে এ ধরনের হয়রানির ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত ও সংরক্ষিত হচ্ছে, সে বিষয়েও পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
অন্যান্য নারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, কোনো যাত্রী এমন পরিস্থিতির শিকার হলে বিষয়টি গোপন না রেখে পরিবার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করবেন। এতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হবে।


