logo
Advertisement

এবার ডাকসুর প্রবেশপথে জিন্নাহ-গোলাম আজমের ছবি পদদলিত করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এবার ডাকসুর প্রবেশপথে জিন্নাহ-গোলাম আজমের ছবি পদদলিত করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ছবি: প্রথম আলো থেকে নেওয়া

নানা বিতর্কের পর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি লাগিয়েছেন ঢাবির একদল শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীরা জানান, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি লাগানোর প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি লাগানোর পর তা পদদলিত করেন তারা।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ডাকসুর সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি লাগানোর পর বলেছিলেন, তার ইচ্ছা হয়েছে এ জন্য তিনি লাগিয়েছেন। তারাও সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বলছেন, তাদের ইচ্ছা হয়েছে তাই তারা জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি পদদলিত করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, যার কি না ইশতেহারে ছিল মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা, তিনিই একজন পাকিস্তানপন্থিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় দেয়ালের মধ্যে সম্মানের সহিত তার ছবি লাগাতে চেয়েছেন। ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি এটা করেছেন।’

শিব্বির আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থিদের ক্ষমতা দিয়ে গোলাম আজম ও জিন্নাহর ছবি, পাকিস্তানপন্থিদের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থির রাজনীতি সামনে আনা যাবে না।’

শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিগত দিনে শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করত। এখানে স্পষ্ট যে শেখ মুজিবের ছবির রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে তারা জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি আনতে চেয়েছে।’

ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদারস ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশ শামস বলেন, ‘কিছুদিন ধরে দেখতেছি যে জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে খুব সম্ভবত ইনকিলাব মঞ্চ থেকে জিন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়, সেখানে ঝুমা আপু অতি উৎসাহের সাথে পোস্টার শেয়ার দেয়। পরবর্তীতে জিন্নাহর ছবি যখন ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে মুছে দেওয়া হয় বা ফেলে দেওয়া হয়, তখন আবার তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে যে ডাকসু সংগ্রহশালায় নাকি ছবি তুলে নেওয়া হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কতটা আক্ষেপ হতে পারে জিন্নার ছবি সরায়ে নেওয়া নিয়ে! তো আমাদের দাবি থাকবে যে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তো তারা যেন বাংলাদেশের পক্ষে থাকে, বাংলাদেশপন্থিদের পক্ষে থাকে।’

এর আগে সংস্কারের পর গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডাকসু সংগ্রহশালা চালু করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। নতুন করে রাখা হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।

এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিংও স্থান পায়। সংগ্রহশালায় রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি।

বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার রাত থেকেই ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। এরপর সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।