নোবিপ্রবির জমি পুনরুদ্ধারে বাধা নেই, মতামত অ্যাটর্নি জেনারেলের

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নামে অধিগ্রহণ করা ১০০ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৩৩ একর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে অগ্রগতি হয়েছে। জমিটি পুনরুদ্ধার এবং সেখানে থাকা অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া এ মতামতে জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর এবং সেখানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণকাজ শুরুর ক্ষেত্রেও আইনগত বাধা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনগত মতামত অনুযায়ী, নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ মামলার মাধ্যমে নোয়াখালী সদর উপজেলায় মোট ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চর সল্লা মৌজায় ৪৯ দশমিক ৮২ একর এবং নোয়াখালী মৌজায় ৫০ দশমিক ১৮ একর জমি রয়েছে। চর সল্লা মৌজার ৭৬ নম্বর দাগের মোট ১ দশমিক ৮২ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৩৩ একর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়।
২০০৫ সালের ৫ মার্চ অধিগ্রহণ করা জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে মতামতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তবে ১০০ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৩৩ একর এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাস্তব দখলে নেই।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, আলী কবির ওরফে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রুল জারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন এবং আগের স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে বলা হয়েছে, আবেদনটি বিচারাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ কার্যকর নেই। শুধু আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন বিচারাধীন থাকার কারণে জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুগ অধিকার ভোগে বাধা সৃষ্টি হয় না।
মতামতে আরও বলা হয়, জমিটি আইনানুগভাবে অধিগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে বিদ্যমান অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর এবং ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণ ও কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো আইনগত বাধা নেই।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য ওই জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থায়ন করা এ প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস। অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদের আট মাস ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জমির সংকট থাকায় স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য অন্য জমি নির্ধারণ করাও বাস্তবসম্মত নয় বলে মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত স্থানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা আশীষ শীল এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তারসহ অন্যরা রিট করেছিলেন। তবে সেই রিটের রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এসেছে। জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এশিয়া পোস্টকে বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ নেই। দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে তার আইনগত মতামত দিয়েছেন। ফলে এখানে কোনো আইনগত জটিলতা নেই। আমরা আগামীকাল প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।
