Advertisement

নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ বেহাল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোবিপ্রবি
নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ বেহাল
নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বেহাল অবস্থা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। মাঠজুড়ে অতিরিক্ত লম্বা ঘাস, অসমতল জায়গা এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে নিয়মিত খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন অংশে ঘাস টাখনু ছাড়িয়ে গেছে। নিয়মিত ঘাস কাটা ও মাঠ পরিষ্কার না করায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘাস ও অসমান মাঠের কারণে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছর নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার জন্য পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত পরিবেশ নেই। ক্রীড়া কার্যক্রম অনেকটা নির্দিষ্ট মৌসুম ও টুর্নামেন্টকেন্দ্রিক। আবার অনেক সময় একাডেমিক পরীক্ষা ও ক্লাসের সঙ্গে ক্রীড়া আয়োজনের সমন্বয় না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

এছাড়া প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্রিকেট পিচটির যথাযথ পরিচর্যা না হওয়ায় সেটিও নষ্ট হওয়ার পথে বলে অভিযোগ রয়েছে। পিচ সংস্কারের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠে কোনো ড্রেসিংরুম এবং পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় খেলোয়াড়দের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক বলেন, সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ক্রীড়া খাতে আমরা অনেক পিছিয়ে। ২০ বছরের পুরোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ইনডোর স্পোর্টস বা জিমনেসিয়ামের উপযুক্ত সুযোগ নেই। বর্ষাকালে মাঠের অবস্থা করুণ হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের জন্য ক্রীড়া বৃত্তি, ডায়েট ভাতা এবং ইনজুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করি, মাননীয় উপাচার্য দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। খেলার পরিবেশ উন্নত হলে শিক্ষার্থীরা মোবাইল আসক্তি কমিয়ে মাঠমুখী হবে।

অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিন আগে ঘাস কাটা শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা স্থগিত করতে হয়। বৃষ্টি থামলে দ্রুততম সময়ে মাঠ প্রস্তুত করা হবে।