অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং ‘প্রহসনমূলক’ দাবি করে কুবি শিক্ষার্থীদের ৪ দফা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংকে ‘প্রহসনমূলক’ উল্লেখ করে চার-দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন করেছে কুবি শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানায়, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ সুপারের (এসপি) দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে তারা ‘প্রহসনমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পূর্বে ঘোষিত চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
দাবিগুলো- অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রত্যাহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারে একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ইউনিট গঠন।

ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া জানান, দুপুর ১২টায় প্রেস ব্রিফিং করার কথা থাকলেও ২টায় করা হয়েছে। আমাদের চার দফা দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় আনাস নামের একজনকে আটক করার সংবাদ প্রকাশ হলেও আজকে পুলিশ সুপার সেটা অস্বীকার করেছেন। তাছাড়া এই ঘটনার অনেকগুলো বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আমাদের চার-দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
একই শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল জানান, গতকাল তুহিনকে গ্রেপ্তারের পর সে আনাসের নাম বলেছে। পরে আনাসকে বেলতলি থেকে আটক করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ বলেছে, আনাস নামে কাউকে আটক করা হয়নি। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকলে কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তারও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একইভাবে সিয়ামের বয়স নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার বয়স দেখানো হয়েছে ১৫ বছর অথচ সে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে জন্মতারিখ ১৭ অক্টোবর ২০০৬ দেওয়া আছে। সে হিসেবে তার বয়স ২০ বছর হওয়ার কথা।
তিনি আরও জানান, আইফোন নিয়ে অপ্রতিম বের হয়েছিল এটি সবাই জানে। ১২ ঘণ্টা সময় নেওয়ার পরও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো নতুন তথ্য দিতে পারেনি। তুহিনের কাছ থেকে নেওয়া স্বীকারোক্তির বিষয়েও কোনো বক্তব্য বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। তারা শুধু বলছে, তদন্তে আরও সময় লাগবে। এর প্রেক্ষিতেই আমরা কর্মসূচি দিয়েছি।