নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লাবিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের অনুসারীদের সঙ্গে সদস্য সচিব মামুন সরকারের কর্মী রাশেদুল হাসান রাতুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে উভয়পক্ষ অগ্নিবীণা হলের সামনে জড়ো হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে দেশীয় অস্ত্রসহ এক গ্রুপ অগ্নিবীণা হল থেকে বিদ্রোহী হলের দিকে ধাওয়া দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের নেতৃত্বে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনুসারীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। আহ্বায়ক পক্ষের দাবি, ওই মিছিল ভন্ডুল করতেই অপর পক্ষের কিছু কর্মী তাদের উসকে দিয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, সূচনালগ্নে আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। খবর পেয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। আমি চাই না ক্যাম্পাসে এমন মারামারি বা অরাজকতা তৈরি হোক। একটি পক্ষ নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
অপরদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো অনুসারী যেন অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছিল। তবে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রধান প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশের ইনচার্জ জুলফিকার আলী এশিয়া পোস্টকে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।



