logo

ইবিতে শহীদ আনাসের হৃদয়স্পর্শী সেই চিঠির ফলক উন্মোচন

ইবিতে শহীদ আনাসের হৃদয়স্পর্শী সেই চিঠির ফলক উন্মোচন
শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। যদি বেঁচে না ফিরি তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের হৃদয়স্পর্শী সেই চিঠির ফলক উন্মোচন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ আনাস হল’-এ এই ফলক উন্মোচন করা হয়।

ফলক উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। এছাড়া শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ, ছোট ভাই সাফওয়ান খান, নানা সাইদুল রহমান বাদলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চিঠিতে শহীদ আনাস তার মায়ের উদ্দেশে লেখেন, ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আম্মুজান, তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইয়েরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ন্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব ঘরে? একদিন তো মরতেই হবে। তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অনেক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয়, সেই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।’

শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, ৪ আগস্ট রাত ৩টা পর্যন্ত আনাস আমাদের সাথে টিভিতে আন্দোলনের খবর দেখেছিল। পরদিন খুব সকালে সে কাউকে না বলে বাসা থেকে মিছিলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। আনাসের ছোট ভাই সকাল ১০টার দিকে চিঠিটি প্রথমে দেখে তার আম্মুকে দেখায়। পরে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে যাই। কিছু পুলিশ আনাসের লাশ গুম করতে চেয়েছিল। তখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের সাথে লড়াই করে লাশটি ছিনিয়ে এনে লুকিয়ে রাখে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ আনাসের নামে হলের নামকরণ এবং চিঠির ফলক উন্মোচনের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। এটি অত্যন্ত মহৎ একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ আনাসের দেশপ্রেম ও ত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস মায়ের উদ্দেশে এই চিঠিটি লিখে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে বের হন। পরবর্তীতে রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি শহীদ হন।