গ্যাস সংকটে রুয়েটের হলে ডাইনিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

গ্যাসের জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোর খাবার ব্যবস্থাপনায়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে মিল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে হলটির প্রায় পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী খাবার সংকটে পড়েছেন। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে গ্যাসনির্ভর অন্যান্য আবাসিক হলের ডাইনিং কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর এশিয়া পোস্টকে বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে আমাদের অবহিত না করেই ডাইনিংয়ে রান্না বন্ধ করা হয়েছে। আমি নিয়মিত ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করি। হঠাৎ এ সিদ্ধান্তের কারণে আমরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্যাস সরবরাহে যে সাময়িক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হয়েছে। চট্টগ্রামের এলপিজি টার্মিনালসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। যেহেতু এটি কেন্দ্রীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও জানান, যেসব আবাসিক হলে খড়ি বা অন্য কোনো বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব হলে ডাইনিং কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে, যেসব হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে চুলা স্থাপনসহ শিক্ষার্থীদের খাবারের সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় সাময়িক ব্যাঘাত জাতীয় পর্যায়ের একটি সমস্যার অংশ। চট্টগ্রামের মহেশখালী গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এশিয়া পোস্টকে আরও জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে আবাসিক ও সাধারণ ভোক্তা—উভয় পর্যায়েই গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আবাসিক হলের ডাইনিংয়ের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের জন্য এ সংকট সরাসরি দৈনন্দিন খাবার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। ডাইনিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থেকে খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।



