logo
Advertisement

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
অনিক চন্দ্র পাল। ছবি: অনিকের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর চানখারপুল এলাকার একটি ছাত্র মেসের কক্ষ থেকে অনিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে। বর্তমানে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের (ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগ) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

নিহতের মেস সদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকেই অনিকের তেমন সাড়াশব্দ বা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টা বা সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোনে না পেয়ে মেসে তার কক্ষে গিয়ে দেখতে বলেন। পরে তারা দুজন মিলে কক্ষের দরজায় দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাননি।

জয় ভূঁইয়া বলেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহপাঠী ও মেস সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর থেকে অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।

সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে।