ঢাবির কোন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা কবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (স্নাতক) প্রোগ্রামে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হলো—কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট, বিজ্ঞান ইউনিট, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) পরীক্ষা ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
আইবিএ ইউনিট ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।
চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী, চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য সব ইউনিটে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। চারুকলা ইউনিটে ৪০ নম্বরের এমসিকিউ ও ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা এবং আইবিএ ইউনিটে ৭০ নম্বরের এমসিকিউ ও ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
চারুকলা ইউনিটে এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটে এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক অংশের জন্য ৩০ মিনিট সময় থাকবে। অন্য ইউনিটগুলোতে এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার জন্য পৃথকভাবে ৪৫ মিনিট করে সময় বরাদ্দ থাকবে।
শিক্ষার্থীদের মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ১০০ নম্বর এবং এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ২০ নম্বর যোগ হবে। ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীদের ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাধ্যমিক বা সমমান এবং ২০২৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদনের জন্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং পৃথকভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এ ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং পৃথকভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে আবেদনের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং পৃথকভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং পৃথকভাবে ৩.৫ থাকতে হবে।
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদনের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং পৃথকভাবে জিপিএ ৩.০ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং পৃথকভাবে ৩.৫ থাকতে হবে। চারুকলা ইউনিটে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং পৃথকভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। সভায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কারিকুলাম অনুযায়ী পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। এ ছাড়া ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস আগামী ২৮ মার্চ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



