Advertisement

সিট বাতিল হলেও হল ছাড়ছেন না রাবি ছাত্রদল নেতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
সিট বাতিল হলেও হল ছাড়ছেন না রাবি ছাত্রদল নেতা
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নিশাত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সিট বাতিল ও হল ছাড়ার নোটিশ দেওয়ার পরও কক্ষ না ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন।

Advertisement

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নিশাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিএসসি (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় নিশাত পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন। পরবর্তী বছর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তার পরের বছর আবারও অকৃতকার্য হন তিনি। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তার ভর্তির হালনাগাদ তথ্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ‘ড্রপআউট’ হিসেবে বিবেচনা করে হল প্রশাসন।

এই প্রেক্ষিতে, গত ২ জুলাই মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে নিশাতের আসন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের সকল বকেয়া পরিশোধ করে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার প্রায় এক মাস পরও তিনি হল ছাড়েননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল নিশাত এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করা আছে। প্রাধ্যক্ষ স্যারের কাছে কিছু দিন সময় চেয়েছিলাম এবং তিনি আমাকে সময় দিয়েছেন। তাই এখন হলে অবস্থান করছি। যেহেতু এখনও নতুন করে আসন বরাদ্দ হয়নি, তাই আগামী অ্যালটমেন্ট পর্যন্ত সুযোগ থাকতে পারে। বিষয়টি হল দখল বা অনানুষ্ঠানিকভাবে থাকার মতো কিছু নয়।

তিনি আরও জানান, আগামী অ্যালটমেন্টের মধ্যে ছাত্রত্ব ফিরে পেলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, আর না পেলে হল ছেড়ে দেবেন।

এ বিষয়ে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিট বাতিল করার পর সে একাডেমিক কাউন্সিলে ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। ওই সময় সে আমার কাছে কিছুদিন সময় চেয়েছিল। আমি তাকে মৌখিকভাবে কিছু সময় দিয়েছিলাম।

প্রাধ্যক্ষ আরও জানান, ওই শিক্ষার্থী ছাত্রত্ব ফিরে পেয়েছে কি না, তা এখনও তার জানা নেই। ছাত্রত্ব ফিরে না পেলে দ্রুতই ওই আসনে নতুন শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ড্রপআউট হওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ আল নিশাত তার ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। বিশেষ বিবেচনায় ছাত্রত্ব ফিরে পেতে তিনি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি। তিনি পুনরায় আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের একতিয়ারাধীন। এক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রশাসনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।