Advertisement

ঢাকার মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ঢাকার মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: পুরোনো

​ঢাকার মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তবে নির্ধারিত নীতিমালা মেনে এবং যান ও পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসন করা হবে বলে জানান তিনি।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।

​প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহর ও এর নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখতে হলে সুশৃঙ্খল হকার ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যেমন হকারদের জীবিকা বন্ধ করতে চাই না, তেমনি সারাদেশের ভাসমান মানুষকে হকার রূপে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়।

​তিনি আরও জানান, কেবল প্রশস্ত ফুটপাতযুক্ত রাস্তায় পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকার বসানো হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট চালু করা হবে।

​সরকার কর্তৃক জারিকৃত ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিয়ে হকারদের নিবন্ধন, নিয়মিত নবায়ন এবং নির্দিষ্ট স্থান ও সময় মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার ওপর জোর দেন তিনি।

​নিবন্ধন ও ফি সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এলাকার জন্য প্রকাশিত পরিপত্র অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে: এককালীন নিবন্ধন ফি: ৫,০০০ টাকা। বাৎসরিক নবায়ন ফি: ২,৫০০ টাকা। মাসিক স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফি: ৩,০০০ টাকা।

​নীতিমালার মূল নির্দেশনাবলী

  • ​নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র: হকারদের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর ও বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নিবন্ধিতদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখসহ বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

  • হলিডে ও নাইট মার্কেট: হলিডে মার্কেট শুক্র, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে বসবে। নাইট মার্কেট বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

  • ​বিশেষ কোটা: স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ জায়গা নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

  • ​পথচারী বান্ধব ফুটপাত: পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতে ন্যূনতম ১.৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না।

  • ​বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: নিজ দায়িত্বে স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া বা নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যবসা করলে উচ্ছেদসহ নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

​মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।