জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী চুয়া সেলিম, বোমা রতন ও কিশোর গ্যাং লিডার জয় গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে চুয়া সেলিম ওরফে চোর সেলিম নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে। একই অভিযানে কিশোর গ্যাং ‘মাহি’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বোমা রতনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেনেভা ক্যাম্পের একটি গোপন স্থানে অভিযান চালিয়ে চুয়া সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও ১১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, হত্যা ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চুয়া সেলিমের নাম উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকেও তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-২।
অন্যদিকে একই দিনে মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘মাহি’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
র্যাব বলছে, জয়ের নেতৃত্বে গ্রুপটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া ও নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মিত তাদের চাঁদাবাজির শিকার হতেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, জয়কে এর আগে গত ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মোহাম্মদপুর থানাধীন বিজলী মহল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ২০ মামলার আসামি মো. রতন ওরফে বোমা রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মজনু রোড, বসিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মজনু রোড এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি।
র্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, চুয়া সেলিমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ ক্ষমতা, বিস্ফোরক, দাঙ্গা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে।
জয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
আর বোমা রতনের বিরুদ্ধে মোট ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, ছিনতাই ও সিঁধেল চুরিসহ ১০টি গুরুতর অপরাধের মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও ১০টি মামলা রয়েছে।



