logo

সংকট উত্তরণে ৯ দফা দাবি রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
সংকট উত্তরণে ৯ দফা দাবি রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। শনিবার পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেলে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গরুর মাংস আমদানির অনুমতি, ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার এবং অভিযানের নামে হয়রানি ও জরিমানা বন্ধসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

ইমরান হাসান জানান, রেস্তোরাঁ খাত শুধু একটি সাধারণ ব্যবসায়িক খাত নয়; এটি কর্মসংস্থান, খাদ্য সরবরাহ ও নগর অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমানে চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ঘরভাড়া, পরিবহন খরচ এবং শ্রম ব্যয়ও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও গ্রাহক হারানোর ভয়ে রেস্তোরাঁগুলো সেই অনুপাতে খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না জানিয়ে তিনি বলেন, এতে রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এই অবস্থায় ব্যবসায় টিকে থাকা এবং খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নীতি ও ব্যয় কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ সময় তিনি সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো-

১. ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু: রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ১০-১২টি দপ্তরের অনুমতি নেওয়ার জটিলতা দূর করে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) আদলে দ্রুত সমন্বিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করতে হবে। এর ফলে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ, সময় ও খরচ কম এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

২. অন্যায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ: অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বাধ্য হয়ে খাবারের দাম সমন্বয় করলে জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হয়রানি ও ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত ব্যয় বিবেচনা না করে কোনো অভিযান পরিচালনা করা যাবে না।

৩. ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার: ভ্যাট আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনৈতিক সুবিধা দাবি বন্ধের পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ এবং উৎসে কর ২ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে স্ট্রিট ফুডসহ সব অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁকে ভ্যাটের আওতায় আনতে হবে।

৪. জ্বালানি ও এলপিজি সংকট সমাধান: এলপিজি ও জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করা, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধ এবং অবিলম্বে লোডশেডিং কমিয়ে আনতে হবে।

৫. অভিযানের নামে হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ: বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অসামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক জরিমানা ও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করার মানসিকতা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় রেস্তোরাঁ মালিকরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

৬. শিল্প নীতির দ্রুত বাস্তবায়ন: ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রেস্তোরাঁ খাতকে ‘শিল্প’ ঘোষণা করা হলেও এখনও এর সুফল পাননি ব্যবসায়ীরা। দ্রুত নির্দিষ্ট শিল্প নীতি তৈরি করা এবং বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুযায়ী রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৭. গরুর মাংস আমদানির অনুমতি: বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে গরুর মাংসের কেজি ৮০০-১০০০ টাকায় পৌঁছানোয় এবং সরবরাহ কম থাকায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সীমিত আকারে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ চাওয়া হচ্ছে।

৮. ট্যাগিং ও চাঁদাবাজি বন্ধ: ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সাথে ট্যাগ করে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৯. আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীতকরণ: রন্ধনশিল্পের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, কারিগরি শিক্ষা চালু, প্রণোদনা এবং পৃথক তহবিল গঠনের মাধ্যমে রেস্তোরাঁ শিল্পকে বিশ্বমানের পর্যটন খাতের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।