logo

উত্তরায় ফুটপাত দখলদারদের সতর্ক করল পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট 

উত্তরায় ফুটপাত দখলদারদের সতর্ক করল পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট 

রাজধানীর উত্তরায় ‘ফুটপাত উচ্ছেদ’ অভিযানের ঢাকঢোল পিটিয়ে অবৈধ দখলদারকে সতর্ক করেছেন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানের খবর পেয়ে দোকানপাট সরানোর হিড়িক পড়ে দোকানদারদের।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়েই অবৈধ দোকানপাট সরানোর হিড়িক পড়ে যায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির উত্তরা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) মো. আনোয়ার সাঈদ, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুবেল আহমেদ, উত্তরা পূর্ব জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) মাহবুবসহ শতাধিক ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একটি টিমও অভিযানে অংশ নেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিএনএস সেন্টার এলাকায় ফুটপাত দখল করে চা, কাপড় ও ফলের ব্যবসা চলছিল। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সদস্যদের জড়ো হতে দেখে দোকানদারেরা দ্রুত মালামাল সরাতে শুরু করেন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা আজ কোনো দোকান উচ্ছেদ বা জরিমানা করেননি। তারা মূলত রাস্তা ও ফুটপাত দখলকারী দোকানদারদের আইন সম্পর্কে বুঝিয়ে সতর্ক করেছেন।

অভিযানকালে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, তাদের কোনো কাজ দেওয়া হয়নি, শুধু রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কাজ করতে পারলে তাদের ভালো লাগত বলে তারা মন্তব্য করেন।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে বলা আছে—কোনো সড়ক, মহাসড়ক, আন্ডারপাসে দোকানপাট বা মেরামতের যন্ত্রাংশ রেখে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের বিঘ্ন ঘটনা যাবে না। কেউ যদি তা লঙ্ঘন করে তাহলে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।  প্রয়োজনে বিশেষ এই মালামাল গুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করার সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, উত্তরায় যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে দোকানের মালামাল রাস্তায় নিয়ে আসে এবং সম্প্রসারণ করে রাস্তা দখল করে। যার কারণে জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ফলে ডিএমপি কমিশনার গণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে অভিযানের কথা জানিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আমরা অভিযান চালিয়ে দখল করা দোকানদারকে সতর্ক করেছি। এরপরও যদি আইন লঙ্ঘন করে তাহলে আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে যাব।

আটক-জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে কাউকে আটক বা জরিমানা করা হয়নি। তাদেরকে বুঝিয়েছি, তারা কো-অপারেট করেছেন।

অভিযানের উদ্দেশ্য ও গণবিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিসি (ট্রাফিক) মো. আনোয়ার সাঈদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনএস সেন্টারের পশ্চিম পাশে অনেকগুলো গ্যারেজ রয়েছে, যারা রাস্তার ওপর গাড়ি মেরামত করে। বিজ্ঞপ্তি জারির পর অনেকাংশে ফুটপাত ও রাস্তা ক্লিয়ার হয়েছে। আমরা দোকানদারদের আবারও সচেতন করে দিয়েছি।

উচ্ছেদের পর আবারও দখল হবে কি না—এমন প্রশ্নে আনোয়ার সাঈদ বলেন, এখনই সেটা বলা যাবে না, তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।