এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ, ফুলবাড়িয়া মার্কেট পরিদর্শনে ডিএসসিসি প্রশাসক

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া মার্কেটে সিলগালা ভেঙে পার্কিং এলাকায় সহস্রাধিক অবৈধ দোকান গড়ে তোলার বিষয়ে এশিয়া পোস্ট-এ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে মার্কেটের অবস্থা দেখতে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা নিয়ে মামলা আছে। হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া কারও পক্ষে কোনো কিছু করা অবৈধ। সিটি করপোরেশন কোনো অবৈধ কার্যক্রমকে বৈধতা দেবে না। এখানে কোনো কিছু অবৈধভাবে করা যাবে না।
তিনি বলেন, হাইকোর্ট কোনো রায় দিলে সেই রায়ের ভিত্তিতে হবে। এর বাইরে কোনো কিছু করলে সেটা অবৈধ। এর সঙ্গে নগর ভবনের কেউ জড়িত থাকলেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসক বলেন, দোকানের জায়গায় দোকান থাকবে। যেখানে পরিষ্কার, যেখানে দোকানের কোনো অর্ডার নাই, সেখানে তো দোকান হতে পারবে না। সে ব্যাপারে পরিষ্কার। আমরা বসেছি, আজও এ ধরনের একটি মিটিং আছে। আমি যেহেতু এটা জরুরি মনে করেছি, যেহেতু পত্রিকায় একটা রিপোর্ট আসছে, সেটার ভিত্তিতেই আমি আজকে আসছি।
আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা মহানগরের প্রধান হিসেবে, প্রশাসক হিসেবে, মেয়র হিসেবে আমি আপনাদের মাধ্যমে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই। কীভাবে নগরবাসীর নাগরিক সুযোগ সুবিধা আমরা দিতে পারি, এ ব্যাপারে ওনাদের সহযোগিতা ওনারা কীভাবে করতে পারেন, সিটি কর্পোরেশন কতটুকু কাজ করতে পারে এটা নিয়ে আমরা কথা বলছি।
এর আগে, গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) এশিয়া পোস্টে ‘গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া মার্কেট: সিলগালা ভেঙে পার্কিংয়ে সহস্রাধিক অবৈধ দোকান’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটিতে মার্কেটের বেজমেন্টে করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের সিলগালা ভেঙে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কীভাবে দুই মাসের মধ্যেই প্রায় ১ হাজার দোকান নির্মাণ করে ১০০ শত কোটি টাকার হরিলুট করছে সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সামাদ উক্ত সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর হাতে লেখা একটি নির্দেশনা প্রদান করেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ফুলবাড়িয়া মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং ও ফাঁকা জায়গায় অবৈধ দোকানের কারণে মার্কেটের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ইতোপূর্বে ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন এসব দোকান অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ফের পুরোনো সিন্ডিকেট প্রভাবশালীদের মদদে পুনরায় সেখানে মার্কেট নির্মাণ শুরু করে।
এদিকে, ডিএসসিসি প্রশাসকের এই কঠোর নির্দেশনার পর এখন অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান শুরু হবে বলে আশা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।