logo

অপহরণের পর নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ৪

অপহরণের পর নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ৪
ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর উত্তরায় আজিবুর রহমান (৫০) নামের একক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অপহরণকারীরা চক্রের সদস্যরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার মসলন্দপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে সজিব মিয়া (২৯), বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মজিবুর রহমানের ছেলে আব্দুল আলিম বাবু (৩০), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাবিবুর রহমানের ছেলে ময়নুদ্দিন (৩২) ও গাজীপুরের গাছার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছেলে মহিউদ্দিন (৩৬)।

উত্তরার উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।

তিনি জানান, দক্ষিণখান থেকে রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিম উদ্দিন থেকে গত ৯ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভুক্তভোগী আজিবুর রহমানকে অপহরণ করা হয়।

ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ‘অপহরণের পর ব্যবসায়ী আজিবুর রহমানকে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারসহ বিভিন্ন নিয়ে ঘুরায়। পরে তাকে মুক্তিপণ আদায় করতে নির্যাতন করতে থাকে। এ ছাড়া মুক্তিপণ না দিলে তাকে মেরে ফেলার জন্য হুমকি দেয় তারা। এ ছাড়া পুলিশের সহযোগিতা না নেওয়ার জন্যও ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।’

তিনি বলেন, 'একপর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পরে অপহরণকারীরা ভিডিও কলে মারধর করার দৃশ্য তার পরিবারকে দেখায়। সঙ্গে ভুক্তভোগীর ভাগিনা জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রে মাস্টার মাইন্ডের দেওয়া একটি ব্যাংক একাউন্টে ২৫ লাখ টাকা পাঠায়।'

ডিসি তারেক আহমেদ বলেন, 'প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পরও অপহরণকারীরা কোটি টাকার জন্য আরও বেপরোয়াভাবে নির্যাতন করতে থাকে।'

তিনি বলেন, 'এ ঘটনায় প্রথমে ভুক্তভোগীর পরিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করে। এদিকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।'

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, 'একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং চারজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মুক্তিপণের জন্য আদায় করা ২৫ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়।'

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।