ঈদের ছুটিতেও দূষণের মাত্রা বাড়ছে ঢাকার বাতাসে

ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। তবুও ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা সংবেদনশীল মানুষদের জন্য সতর্কতামূলক অবস্থানে আছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের বায়ুমানের তালিকায় এ চিত্র দেখা যায়।
সংস্থাটির সকাল সোয়া ৯টার সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বের দূষিত শহর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৭ম। আজ ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১০৭, যা সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
তবে গত বৃহস্পতিবার শশহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল ৭৭। আগেরদিন ছিল ৭৩। আর গত মঙ্গলবার ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ৪৭। দুদিন ধরে বৃষ্টি না থাকায় বাতাসে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেড়েছে।
তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা। শহরটির স্কোর ১৯৬। বায়ুমানের এই স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতার স্কোর ১৪২। এই শহরের দূষণের মাত্রা কিছুটা বেশি হলেও দেশটির আরেকটি শহর দিল্লির বাতাস মোটামুটি ভালো। কারণ তালিকার ১৫তম অবস্থানে থাকা শহরটির বায়ুমানের স্কোর ৯০, যা মোটামুটি ভালো ধরা হয়। আর ৫৩ অবস্থানে থাকা ভারতের মুম্বাইয়ের বাতাসও মোটামুটি ভালো রয়েছে।
এ ছাড়া ১৩৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, ১৩১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে চিলির শান্তিয়াগো, ১২২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ, ১১৬ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হেনোয়। শহরগুলোর বায়ুমানের স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
অন্যদিকে, তালিকার অষ্টম অবস্থানে থাকা লাহোরের স্কোর ১০১। এই শহরের দূষণের মাত্রা কিছুটা বেশি হলেও দেশটির আরেকটি শহর করাচির বাতাস মেমাটামুটি ভালো।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
.png)






