গরুর ব্যাপারীদের আতঙ্ক মহাসড়কের লাঠিয়াল বাহিনী

রাজধানীর বিমানবন্দর মহাসড়কে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে পুলিশের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে জোরপূর্বক গরুর গাড়ি ঢোকানো হচ্ছে হাটে। পুলিশ নিরুপায় হয়ে সেই দৃশ্যের শুধু ভিডিও করে রাখে। ফলে মহাসড়কের লাঠিয়াল বাহিনী ব্যাপারীদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের বিমানবন্দরের কাওলায় এমন কর্মকাণ্ডের দৃশ্যের দেখা মেলে।
জানা গেছে, খিলক্ষেতের বনরূপা গরুর হাটটির ইজারা নিয়েছে আরফিন অ্যান্ড আরাফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। আর মহাসড়কের লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা সবাই তারই লোক। এদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।
এ ছাড়াও মহাসড়কটির জসিম উদ্দিন, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকায় রিফ্লেকটিং কটি পরিহিত ৩০-৪০ জনকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে জোর করে গরুর গাড়ি ধরে নিয়ে হাঁটে ঢোকাতে দেখা গেছে।
এদিকে ইজারার শর্তাবলির মধ্যে ৬, ৭ ও ১২নং শর্তে বলা হয়েছে ‘যানবাহন, পথচারী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না, ইজারাদার জোরপূর্বক পশুকে হাটে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করতে পারবে না।’ তবুও তা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যা-ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন হাটের ইজারাদার।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত গরুর ব্যাপারীরা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা আমাদের পছন্দের হাটে কোরবানির পশু নিয়ে যাব। কিন্তু রাস্তা আটকে লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা জোর করেই আরেক হাটে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সামনে পুলিশ থাকলেও কিছুই বলছে না। শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে।’
তারা বলেন, ‘পুলিশের এমন ভূমিকা দেখে মনে হয়, হাটের ইজারার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ইজারায় নিয়ে নিয়েছে। যার কারণ পুলিশ শুধু দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমাদের আতঙ্কে এখন মহাসড়কের লাঠিয়াল বাহিনী।’
এদিকে ঘটনাস্থলে বিমানবন্দর থানা পুলিশ সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ড ভিডিও করে রাখতে দেখা যায়। এশিয়া পোস্ট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। বিমানবন্দর থানার এসআই আশরাফুল মুকুল বলেন, ‘আমরা নিরুপায়। আমাদের ঊর্ধ্বতন স্যারেরাও এসে এ বিষয়ে তাদের বলে গেছেন। কিন্তু কোনো কর্ণপাত করছে না কেউ।’
যদিও আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাটের বাইরে বা রাস্তায় গরুর গাড়ি বা পশুবাহী কোনো যানবাহন নিয়ে টানাটানি বা জোরজবরদস্তি করলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে গরুর গাড়ি জোরজবরদস্তির মাধ্যমে হাটে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের লোকজন সেটি অস্বীকার করেন। হাটটির স্বেচ্ছাসেবক মো. ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা জোর করে কোনো গাড়ি ঢুকাচ্ছি না। আমরা জিজ্ঞাসা করি তারা কোথায় যাবে এবং বলি, এখানে একটি হাট আছে। মনে চাইলে ঢুকাবে, নাহলে চলে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জোর করে ঢুকানো যায় না। কারণ সরকারি ইজারা এটি। সবারই সমান অধিকার আছে।’
বিমানবন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ও হাটের স্বেচ্ছাসেবক রিপন গাজী বলেন, ‘আমাদের বনরূপা হাট অনেকেই চেনে না। যদি কেউ জোর করে গরুর গাড়ি ঢোকানোর কথা বলে থাকে, তাহলে সেটি মিথ্যা কথা।’
