শিকলবন্দি ব্যক্তিকে উদ্ধার, অপহরণ চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পর মুক্তিপণের দাবিতে নিলয় শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়। পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বরং আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
অবশেষে অপহরণের নয় দিন পর ফরিদপুরের একটি আবাসিক ভবন থেকে পায়ে শিকল ও তালা লাগানো অবস্থায় নিলয়কে জীবিত উদ্ধার করেছে র্যাব-১০। এ ঘটনায় অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের র্যাব-১০ কার্যালয়ে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুর কোতোয়ালির রঘুনন্দনপুর এলাকার ফেরদৌস উর রহমান (৪২), গোয়ালচামট এলাকার মহুয়া আহমেদ (৩২) এবং মুন্সীডাঙ্গী এলাকার এস এম মনোয়ার (৩৬)।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, যশোরের ঝিকরগাছার মহেশপাড়া এলাকার নিলয় শিকদারকে বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্টসহ কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা নেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৬ আগস্ট তাকে অপহরণ করা হয়।
অপহরণের পর নিলয়ের পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারটি বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু মুক্তি না দিয়ে অপহরণকারীরা আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।
এ ঘটনায় নিলয়ের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় অপহরণ মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষে পায়ে শিকল ও তালা লাগানো অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিলয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাকে মারধর করা হতো এবং দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতে নির্যাতনের সময় চিৎকার যাতে বাইরে শোনা না যায়, সে জন্য উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হতো বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছে র্যাব।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, অভিযানকালে ঘটনাটির মূলহোতা ফেরদৌস উর রহমান ও মহুয়া আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার মুন্সীডাঙ্গী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে এস এম মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালাল বা প্রতারক চক্রের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের প্রতারণা বা অপহরণের তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।



