দুটি ১০ তলাসহ পাঁচটি ভবনের নিয়মবহির্ভূত অংশ ভেঙে দিল রাজউক

রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরখানের নির্মাণাধীন দুটি দশ তলাসহ পাঁচটি ভবনের নিয়মবহির্ভূত অংশ ভেঙে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এসময় ছয়টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণখানের আর্মি সোসাইটি ও উত্তরখানের ফজির বাতান এলাকায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযান থেকে বাদ পড়েনি দক্ষিণখানের আর্মি সোসাইটি এলাকার সেনা ও নৌ বাহিনীর ৩৬ জন কর্মকর্তার গড়ে উঠা দশ তলা ‘শান্তি নিবাস’। ভবনটির দ্বিতীয় তলার অতিরিক্ত অংশ ও নিচের বাউন্ডারির দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়াও ইসমাঈল খোলার ইসমাইল হোসেনের দশ তলা ভবন নির্মাণের জন্য গড়ে তোলা কয়েকটি পিলার ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে উত্তরখানের ফজির বাতান এলাকার নির্মাণাধীন দশ তলা ভবন এইচএমএস টাওয়ার। প্লান বহির্ভূত ও রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে দ্বিতীয় তলার সম্মুখের কিছু অংশ ভেঙে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় নোটিশ ছাড়া ভবনটি ভাঙচুরের অভিযোগ তোলে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করেন। পরে ফের ভবনটির আরও কিছু অংশ ভেঙে ফেলে রাজউক।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসান। এ সময় রাজউকের ইমারত পরিদর্শক এবং আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান প্রসঙ্গে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযানের অংশ হিসেবে আমরা আজকে রাজউকের জোন ২/১ ভুক্ত এলাকায় আমরা আজকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।
ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ৫টি ভবনে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। ৫টি ভবনেই আমরা দেখতে পেয়েছি যে, ভবনগুলো রাজউকের অনুমোদনের বাইরে অর্থাৎ অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে নির্মাণ করেছে। যার ফলে আমরা অতিরিক্ত ও নিয়ম বহির্ভূত যে অংশ আছে সেটা অপসারণ করেছি।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমরা এই ৫টি ভবন থেকে আমরা ৬টা কনস্ট্রাকশন মিটার পেয়েছি, আমরা এই নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার স্বার্থে—যাতায়াত যেহেতু এর দ্বারা রাজউকের অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে তারা নির্মাণ কাজ করছে, সেক্ষেত্রে আমরা সেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করেছি। আমাদের অভিযান স্টিল নাও চলমান আছে।
সেনা ও নৌ অফিসারদের অভিযান চালানো দশ তলা ভবন প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান বলেন, ভননের পিলা, কলামগুলো রয়েছে, ওখানে কলাম ডেভিয়েশন থেকে শুরু করে সেটব্যাকেও ডেভিয়েশন রয়েছে। যার কারণে অতিরিক্ত অংশের কিছুটা ভাঙা হয়েছে।
অপরদিকে রাজউকের জোন ২/১ এর অথরাইজড অফিসার মো. হাসানুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আজকের মোবাইল কোর্টে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন আমরা হইনি। এখন পর্যন্ত আমরা সুষ্ঠুভাবেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছি।
.png)


