logo
Advertisement

রাজধানীতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
রাজধানীতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
ডিম, ডাল, পেঁয়াজ ও আলুসহ প্রায় সব দরকারি পণ্যের বাজারই চড়া। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে রাজধানীতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাল, ডাল, তেলসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকায় মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকেই।

Advertisement

নিম্ন আয়ের মানুষ নিজেদের আর্থিক কষ্টের কথা বলতে পারলেও চরম বিপাকে রয়েছেন স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্তরা। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে অনেকেই নীরব যন্ত্রণা সহ্য করছেন, প্রকাশ করতে পারছেন না নিজেদের দেনা-পাওনার হিসাব কিংবা আর্থিক সংকটের কথা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর ও রামপুরা বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একই পণ্য একেক দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ডিম, ডাল, পেঁয়াজ ও আলুসহ প্রায় সব দরকারি পণ্যের বাজারই চড়া।

বাজারে মানভেদে চায়না ও দেশি রসুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জিরা, গোলমরিচ ও এলাচ। হাঁস ও ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়।

কাঁচাবাজারেও মিলছে না স্বস্তির খবর। কেজিপ্রতি শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লালশাক ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজারে স্বস্তি নেই বললেই চলে। কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজির কম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগির চড়া বাজারও। ব্রয়লার (ফার্মের) মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, কক ৩৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল ও রাব্বিসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ডিম ও শিশুখাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় ক্রেতাদের সাথে প্রায়ই বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে আগের তুলনায় সার্বিক বিক্রিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

বাজার করতে আসা চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীদের জীবন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাস শেষে যে বেতন পাই, তা দিয়ে নিজেদের অন্যান্য চাহিদা মেটানো দূরে থাক, প্রতিদিনের বাজার খরচ করতেই হিমশিম খাচ্ছি।’

কয়েকজন ক্রেতা জানান, আগে তারা একসঙ্গে অন্তত ৫ কেজি চাল কিনতেন। কিন্তু খরচের রাশ টানতে এখন বাধ্য হয়ে কেজি মেপে চাল কিনে দিনের হিসাব সামলাচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিব রহমান জানান, নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যে সংসার সামলাতে হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে শুধু খাবার কিনতেই বেতনের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে। ফলে চিকিৎসা বা শিক্ষার মতো অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক কারণে এই কষ্টের কথা কাউকে বলাও যায় না।

বাজারে আসা সাধারণ ভোক্তাদের একটাই দাবি অবিলম্বে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত বাজার নজরদারির পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। রাজধানীর বাজারে লাগামহীন দামের এই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত কতদিন বইতে হবে এখন সেটিই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।