পল্লবীতে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ‘ল্যাংড়া’ রুবেলসহ গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীর পল্লবীতে মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেলসহ তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— (১) হামিদ খান ওরফে মাখন, (২) ল্যাংড়া রুবেল, (৩) তানজিদ আহমেদ ওরফে বাপ্পা, (৪) পারভেজ এবং (৫) রাব্বী।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৫ মিনিটে পল্লবী থানার সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় পথচারী জোসনা নামে এক নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার পরপরই ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত টয়োটা প্রিমিও গাড়িটি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির নিবন্ধিত মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেল। একই সঙ্গে তিনি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য এবং গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ল্যাংড়া রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে পল্লবী থানার কালশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাংড়া রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি সদস্যরা ল্যাংড়া রুবেল ও তানজিদ আহমেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেন যে, মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীরা এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
.png)


