logo

গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ডের টাকা তুলতেন সাবেক এই ব্যাংক কর্মকর্তা

গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ডের টাকা তুলতেন সাবেক এই ব্যাংক কর্মকর্তা
গ্রেপ্তার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন। ছবি: সিআইডি

গ্রাহকের অজান্তে তার নামে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকার কমার্শিয়াল কোভ ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি একসময় দেশের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, তিনি গ্রাহকের বিশ্বাসের অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ২০১৭ সালে এক গ্রাহক নিজের নামে একটি ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করেন। পরে প্রয়োজন না হওয়ায় তিনি কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দেন।

তিনি জানান, ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন কার্ডটি নিজের কাছে রেখে দেন। শুধু তাই নয়, তিনি কার্ডটির সঙ্গে ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা সংযুক্ত করেন, যাতে ওটিপি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি তার কাছেই পৌঁছায়।

এরপর গ্রাহকের অজান্তেই তিনি কার্ডটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিভিন্ন সময়ে প্রতারণামূলকভাবে আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যেতে থাকেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়।

এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করা হলেও হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পরও লভ্যাংশসহ ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, সারোয়ার হোসেন ২০১৯ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও ওই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন অব্যাহত রাখেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট সংগ্রহ করলে সেখানে তার নামে একটি ক্রেডিট দায়ের তথ্য দেখতে পান।

রিপোর্টে উল্লেখিত ঋণ ও আর্থিক দায় সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। কারণ তিনি কখনও ওই কার্ড ব্যবহার করেননি কিংবা কোনো ঋণও গ্রহণ করেননি।

এ ঘটনায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগী বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়।

পরে ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে গ্রাহকের নামে পরিচালিত সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্ড ব্যবহারের তথ্য উদ্‌ঘাটিত হয়। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যা যথাক্রমে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং জাল নথি ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সিআইডি আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকার কমার্শিয়াল কোভ ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) অঞ্চলের একটি আভিযানিক দল তাকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি বলছে, অভিযুক্তের ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড, অতীত লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।