চাঁদাবাজি ও প্রতারণা মামলায় যুবলীগ নেতা সুফি সাগর কারাগারে

চাঁদাবাজি ও প্রতারণা মামলায় আওয়ামী যুবলীগের বনানী থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সুফি সাগর শামসকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত শুনানি শেষে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাদীর আইনজীবী রাওমান স্মিতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, সুফি সাগর কথিত একটি মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা বলে নিজেকে পরিচয় দিতেন।
সুফি সাগরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে তার অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, এক মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত ২৩ আগস্ট ডিবি পুলিশ সুফি সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। জামিনে মুক্তির পর ফের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে যুবলীগকে মাঠে নামানোর অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুফি সাগরকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য, সুফি সাগর নিজেকে মানবাধিকারকর্মী ও কথিত একটি মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করতেন। তার নামের সঙ্গে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি একটি সনদ দেখান। পরে সেটি ভুয়া বলে দাবি করে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে ওই সনদ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তি তাকে সংগ্রহ করে দিয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছিল ডিবি।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একাধিক ভিজিটিং কার্ড ও একটি কথিত ডক্টরেট ডিগ্রির সনদ জব্দের কথা জানিয়েছিল ডিবি। তদন্তকারীদের দাবি, সুফি সাগর প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডিও পার হননি।
ডিবির অভিযোগ, ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের আড়ালে সুফি সাগর একটি চক্র পরিচালনা করতেন। চক্রটি সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাতো। পরে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে চাঁদা দিতে বাধ্য হতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এছাড়া মানব পাচারের অভিযোগে মার্কিন দূতাবাসের করা একটি মামলায় সুফি সাগরের প্রতিষ্ঠিত ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে ডিবি গ্রেফতার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জাতিসংঘের কথিত ভুয়া আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
