রাজধানীতে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যা, জামাতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর কলাবাগানে পারিবারিক বিরোধে স্ত্রী ও শাশুড়িকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে মো. হৃদয় ওরফে শিপন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে কলাবাগান থানাধীন আলামিন রোডের একটি বহুতল ভবনের পঞ্চমতলার একটি ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শিপনের স্ত্রী ও শাশুড়ি।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলাবাগান থানাধীন আলামিন রোডের একটি বাসার পঞ্চমতলায় পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে শিপনের সঙ্গে নিহত নারীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক অশান্তি সময়ের সঙ্গে আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার সকালে শিপন স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে শ্বশুরবাড়ি যান। সেখানে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি রান্নাঘর থেকে একটি চাকু নিয়ে স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। পরে স্ত্রীর গলায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
স্ত্রীর চিৎকার শুনে তার মা মেয়েকে বাঁচাতে ছুটে এলে শিপন তাকেও ছাড় দেননি। একইভাবে শাশুড়ির গলা ও কাঁধে আঘাত করেন। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের সময় নিহত নারীর ভাই ইয়ামিন পুরো ঘটনাটি দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত শিপন তার এক বছর বয়সি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রোববার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে কলাবাগান থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ঘটনার অন্যান্য দিকও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
.png)

