logo

মেয়ের বিয়ের কাজে অফিসার্স ক্লাবে গিয়ে প্রাণ যায় সাবেক সেই সচিবের

মেয়ের বিয়ের কাজে অফিসার্স ক্লাবে গিয়ে প্রাণ যায় সাবেক সেই সচিবের
অফিসার্স ক্লাব। ছবি: ক্লাবের ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়া

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. মোশারফ হোসেন (৭২) ছোট মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কাজে গিয়েছিলেন রাজধানীর রমনার অফিসার্স ক্লাবে। সেখানে কাজ শেষে বের হওয়ার সময় পথ খুঁজে না পেয়ে তৃতীয় তলার বেজমেন্ট থেকে নিচে পড়ে মারা যান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টা দিকে তিনি অফিসার্স ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে পৌনে ১১টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মোশাররফ হোসেন মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভুনা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বনানীর ৫ নং রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজান তার সঙ্গেই থাকতেন। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন।

মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিক কাজে ক্লাবে যান বাবা

মোশাররফ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা তার মামাতো ভাই মো. নাজমুল হাসান মিলন জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে মোশারফ হোসেন তার ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজানকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাসমিয়াকে কয়েক দিন পরপরই সাঁতার শেখানোর জন্য সেখানে নিয়ে যেতেন। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও গিয়েছিলেন। পরে তিনি মেয়েকে সুইমিংপুলে রেখে নির্মাণাধীন ভবনে যান।

তিনি আরও জানান, তাসমিয়া মারজানের বিয়ে ঠিক হয়েছে। কয়েক দিন পরেই বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিয়ের আনুষ্ঠানিক কিছু কাজের জন্য (বুকিং) অফিসার্স ক্লাবের পাশের নির্মাণাধীন ভবনে ওপরে ওঠেন তিনি।

নাজমুল হাসান আরও জানান, মোশাররফ হোসেন চোখে কম দেখতেন। কয়েক দিন আগে চিকিৎসা করিয়েছেন। তিনি বের হওয়ার সময় লিফট খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এ সময় তিনি সিঁড়ি দিয়ে একবার নামছিলেন, আবার উঠছিলেন। সেখানে নিচ থেকে বিদ্যুতের সংযোগ তোলার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা আছে, সেখান দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যসনদ ও আনুষঙ্গিক বাকি কাজের জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই

মো. নাজমুল হাসান বলেন, তার এমন মৃত্যুতে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই কারণ পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। প্রশাসন থেকেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে জানিয়েছে। তার বয়সের কথা চিন্তা করে আমরা ময়নাতদন্ত করতে চাচ্ছি না। সেই হিসাবে প্রশাসন ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সেখান থেকে দেশে ফিরলেই তার দাফনকাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন মিয়া শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এশিয়া পোস্টকে বলেছেন, আমরা জানতে পেরেছি উনি (মোশাররফ হোসেন) ওই ভবনের একটি ফাঁকা অংশ থেকে নিচে পড়ে গিয়েছেন। আমরা সেখানে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছি।

ওসি আরও বলেন, এ বিষয়ে তার পরিবার থেকে একটি দরখাস্ত দেবে। তারপর আমরা এ ঘটনাকে অজ্ঞাত মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করব। যেহেতু কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে আমরা জানতে পেরেছি, সে হিসেবেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।