logo

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ডিআরইউ/আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত

আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি সরকার আমলে নিয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান বিবেচনা করা হবে। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের এমন বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ডিআরইউ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে ডিআরইউ ইতোমধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু এখনো তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি, যা গোটা সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগের। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে সাংবাদিকদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, সম্মান ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে ডিআরইউ আপসহীন। তারা আশা করেন, সরকার আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে যথাযথ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

তারা আরও বলেন, পুলিশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আইজিপির আরও সংযত, দায়িত্বশীল ও পেশাদার হওয়া প্রত্যাশিত। দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠী সম্পর্কে যাচাই-বাছাই ছাড়া ঢালাও মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ডিআরইউ নেতারা বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। কোনো ব্যক্তির অসংযত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে সরকারকে দেশে-বিদেশে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে দায়িত্ব পালন করেন। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তার প্রতিকার হতে পারে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বা অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা যুক্তিসংগত নয়।

ডিআরইউ নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানাবে এবং দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত শিষ্টাচার ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

একই সঙ্গে আইজিপিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সাংবাদিক সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ডিআরইউ নেতারা।