ঢামেকে ফেলে যাওয়া সেই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অচেতন অবস্থায় রেখে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম ওবায়দুল হক মল্লিক সবুজ (৫৪)। তিনি ধামরাইয়ের প্রতীক সিরামিক কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
মৃতের ছেলে জাহিদুল হক মল্লিক তামিম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার শীতলকুশা গ্রামে। বর্তমানে তারা সাভারের ব্যাংক কলোনিতে বসবাস করেন। তার বাবা ধামরাইয়ের প্রতীক সিরামিক কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের কারণে বেশির ভাগ সময় তিনি ধামরাইয়ে থাকতেন।
তিনি আরও জানান, তার বাবা সুস্থ ছিলেন। শুক্রবার তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন, তা পরিবারের সদস্যরা জানতেন না। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনমথ হালদার জানান, শুক্রবার দুপুরে দুই ব্যক্তি ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে চলে যান। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় তার পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তা জানতে পারেন। এরপর রাতে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
এসআই মনমথ হালদার আরও জানান, ওবায়দুল হক মল্লিক সবুজের দুই স্ত্রী রয়েছেন। ধামরাইয়ে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল হকের বাসায় থাকতেন। শুক্রবার ওই বাসা থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে বের হন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুই স্ত্রীর কাছ থেকেই লিখিত নেওয়া হয়েছে। তারা মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ করেননি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চলন্ত বাসে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ওই ব্যক্তিকে দুই ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
