আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হলেও বায়ুদূষণ কমেনি। দূষিত শহরের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ঢাকা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তালিকায় দেখা যায়, ঢাকার বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। এই সময়ে রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১৫৮, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সাধারণত ঈদের ছুটিতে যানবাহন ও জনসমাগম কমে যাওয়ায় রাজধানীর বায়ুমান কিছুটা উন্নত হওয়ার কথা। তবে এবার সেই চিত্র খুব একটা দেখা যায়নি। নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটা ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা দূষিত বায়ুর প্রভাবের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তালিকার ২৩২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দিল্লি, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। ২৩০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেইজিং। এরপর যৌথভাবে ১৭১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ ও পাকিস্তানের লাহোর। ১৬৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই। তাদের পরেই ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।
এদিকে তালিকায় থাকা অন্যান্য শহরের মধ্যে যৌথভাবে ১৫৬ স্কোর নিয়ে সপ্তম ও অষ্টম স্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও চীনের সাংহাই। আর ১৪৫ স্কোর নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে জাকার্তা। আর ১৩৪ স্কোর নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু।
মূলত একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পড়ে, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের কয়েকটি প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করে—বস্তুকণা (পিএম-১০ ও পিএম-২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং ওজোন (O₃)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বস্তুকণা পিএম-২.৫ সবচেয়ে ক্ষতিকর, যা ফুসফুসে প্রবেশ করে ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানা ও জ্বালানি পোড়ানো থেকেও বায়ুদূষণ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।