উত্তরায় সিরিজ চুরির রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে বিলকিসের জবানবন্দি

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বাসায় প্রবেশ করে চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে চুরি ও হত্যাচেষ্টার একাধিক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিলকিস বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানাধীন একটি বাসায় গৃহকর্মী পরিচয়ে ঢুকে বাসার মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় এক নারী। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই পূর্বে সংঘটিত আরেকটি ঘটনার সঙ্গে এর কৌশলগত মিল খুঁজে পায়।
এর আগে, গত বছর ১৩ আগস্ট উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগ দেয় এক অজ্ঞাত নারী। পরদিন জাতীয় পরিচয়পত্র আনার কথা থাকলেও তা না এনে কাজ শুরু করে। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসায় থাকা বৃদ্ধা রওশনারা বেগমকে নাশতার সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে তার পরিহিত স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় ওই নারী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে মো. ইবনুল আলম পলাশ উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিলকিস বেগমকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে সংস্থাটি।
গত ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া স্বর্ণ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শহরবানু নামে এক নারী এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিলকিস বেগম ভুয়া পরিচয়ে গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে বিভিন্ন বাসায় প্রবেশ করতেন। পরে সুযোগ বুঝে বাসার সদস্যদের চেতনানাশক প্রয়োগে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে গাজীপুরে নিয়ে বিক্রি করতেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিটের ইনচার্জ ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, পিবিআই একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সংস্থা। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।