মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি বায়রার সদস্যদের

হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারী সিন্ডিকেটের জিম্মি দশা থেকে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারকে মুক্ত করে সকল বৈধ বিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজারটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সিন্ডিকেটবিরোধী সদস্যরা।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বায়রারর ইসি কমিটির সাবেক সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, আপনারা সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যাব। বার বার এই বাজারকে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে দিব না। আমরা সবার জন্য ব্যবসা চাচ্ছি। নির্দিষ্ট ১০০ জন কেন ব্যবসা করবে। সিন্ডিকেটের এই ১০০ জন চাচ্ছে, শুধু তারাই ব্যবসা করুক। এই সিন্ডিকেট ২৪ হাজার কোটি লোপাট করেছে। আমাদের দাবি তাদেরকে দেশে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা।
এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ান শমবাজারটি উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে FWCMS নামক একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিন্ডিকেটের হোতা ‘দাতু শ্রী’ মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। Bestinet SDN BHD, FWCMS, SPPA, নামক টুলসগুলো ব্যবহার করে তারা সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেছে, এই টুলস গুলো হচ্ছে অভিবাসী কর্মীদের শোষণ করার হাতিয়ার। এই নামগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। ILO, IMO ’সহ আন্তর্জাতিক বহু সংস্থা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সৌচ্ছার ছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি মিডিয়াতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন বহুবার প্রকাশ হয়েছে। তদানীন্তন স্বৈরাচারী সরকার সিন্ডিকেটের পক্ষে থাকার কারণে সিন্ডিকেটকে বিলুপ্ত করা যায়নি এবং কোন শাস্তি তাদের হয়নি।
ওই দুই পিরিয়ডে সরকারের নির্ধারিত সবোর্চ্চ অভিবাসন ফি ছিল ২০১৬ সালে ৪৭ হাজার এবং ২০২১ সালে ৭৯ হাজার টাকা। দুর্ভাগ্যবশত প্রতিটি কর্মীকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য ৪/৫/৬ লাখ টাকা দিতে হয়েছে, সিন্ডিকেটের শিকার হয়ে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো পদ্ধতির ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদনামের কারণে তারা এই বার নতুন সফটওয়্যার TURAP (The universal recruitment advance platform) ব্যবহার করছে কর্মী রিব্রুট করা, টাকা নেওয়া ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। Global employment facilitation center এর নাম দিয়ে একটা one stop service center প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এজেন্সি ও কর্মী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এবার তাদের আর্কষণীয় শ্লোগান হলো জিরো কষ্টে কর্মী প্রেরণ। বিগত দুইবার যেই টাকা নেওয়ার কথা ছিল তার থেকে অনেক গুণ বেশি টাকা নেওয়ার কারণে এবার জিরো কষ্টের প্রস্তাব দিচ্ছে। জিরো কষ্টে বাজার উন্মুক্ত করা তাদের একটি কৌশল মাত্র। তাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কর্মী রপ্তানি হলে প্রতিটি কর্মীকে এইবার দিতে হবে ৬/৭ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জিরো কষ্টে কর্মী রপ্তানি আড়ালে তারা ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ২৫ এজেন্সির বাহিরে অন্য কোন এজেন্সি কোন কর্মী রপ্তানি করতে পারবে না বলেও সিন্ডিকেটের সদস্যদের তারা নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। যারা সিন্ডিকেটের সদস্য হতে আগ্রহী তাদের থেকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিচ্ছে বলে ও শুনা যাচ্ছে। একদিকে তারা সরকারকে জিরো কষ্টের কথা বলছে অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা নিচ্ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী রিক্রুট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেম প্রয়োগ করবে তবুও সিন্ডিকেট প্রণীত TURAP মাধ্যমে করবো না।
আমরা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর নিকট জানাচ্ছি যে আমরা যেন কিছুতেই সিন্ডিকেটের হোতাদের পাতানো ফাঁদে পা না দিয়। দাতো আমিন ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনেরা দীর্ঘ অনেক বছর থেকে মালয়েশিয়ান শ্রমবাজারকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের জিম্মি দশা থেকে বাজারটি মুক্ত করে সকল বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।