logo

বিশেষ জ্যাকেটে লুকিয়ে ফেনসিডিল পাচার, রাজধানীতে চার কারবারি গ্রেপ্তার

বিশেষ জ্যাকেটে লুকিয়ে ফেনসিডিল পাচার, রাজধানীতে চার কারবারি গ্রেপ্তার
জব্দকৃত ফেনসিডিলসহ আসামিরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেটের গোপন চেম্বারে ফেনসিডিল বহনের অভিনব কৌশল ব্যবহার করে রাজধানীতে মাদক পাচারের সময় চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০৯ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও দেশ ট্রাভেলসের দুটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাসিরুল ইসলাম (৪৮), নাটোরের লালপুরের ফাহিম আজাদ (২৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের জুলেখা খাতুন (৩২) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শারমিন খাতুন (৩২)।

উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, ন্যাশনাল ট্রাভেলসের দুটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ২০৯ বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। পরে দেশ ট্রাভেলসের এক যাত্রীর দেহে পরিহিত বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেটের গোপন চেম্বার থেকে আরও ৫০ বোতল এবং অপর একটি বিশেষ জ্যাকেট থেকে আরও ৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৩০৯ বোতল ফেন্সিডিল, যার মোট পরিমাণ ৩০ দশমিক ৯ লিটার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়মিত ফেনসিডিল সরবরাহ করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা মাদক পরিবহনের সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতেন, একাধিক রুট ও যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করতেন এবং নিজেদের যোগাযোগে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করতেন।

তিনি জানান, মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ জ্যাকেটগুলোতে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেনসিডিল বহন করা যেত। বাইরে থেকে এগুলো সাধারণ পোশাকের মতো দেখাত, ফলে সহজেই নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করত চক্রটি।

মেহেদী হাসান আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ‘ESKUF Syrup’ ও ‘FAIRDYL Syrup’ নামে পরিচিত কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে সরবরাহ করতেন।

এ ঘটনায় বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।