প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ডিপিডিসির জরুরি বার্তা

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা কাটা, অস্বাভাবিক বা কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’, ছুটির দিন কিংবা মধ্যরাতে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জে দীর্ঘ টোকেন পাওয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে এসেছে জানিয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) গ্রাহকদের ভোগান্তি ও উদ্বেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্য প্রকাশ করেছে।
গ্রাকদের সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
ডিমান্ড চার্জ কাটার নিয়ম
ডিপিডিসি জানিয়েছে, গ্রাহকের অনুমোদিত লোডের বিপরীতে প্রতি মাসে একবার ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয়। কোনো গ্রাহক যদি কোনো মাসে মিটার রিচার্জ (ভেন্ডিং) না করেন, তবে পরবর্তী সময়ে রিচার্জ করার সময় আগের রিচার্জ না করা মাসগুলো এবং বর্তমান মাসের ডিমান্ড চার্জ একসঙ্গে কেটে নেওয়া হবে।
উদাহরণ হিসেবে ডিপিডিসি জানিয়েছে, ‘এলটি আবাসিক’ শ্রেণির কোনো গ্রাহকের অনুমোদিত লোড ২ কিলোওয়াট হলে এবং তিনি টানা তিন মাস রিচার্জ না করলে, জুন ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াট ৪২ টাকা হারে তিন মাসের ডিমান্ড চার্জ হবে—২ কিলোওয়াট × ৪২ টাকা × ৩ মাস = ২৫২ টাকা।
মিটার ভাড়া কত
গ্রাহক নিজ অর্থে প্রিপেইড মিটার কিনে স্থাপন করলে কোনো মিটার ভাড়া দিতে হয় না। তবে ডিপিডিসি সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে একবার মিটার ভাড়া কাটা হয়। ডিপিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা।
২২০ ডিজিটের টোকেন কেন আসে
ট্যারিফ বা বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের পর প্রথমবার প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে অনেক গ্রাহক ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের দীর্ঘ টোকেন পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের পর প্রথমবার রিচার্জের সময় নতুন এই মূল্যহার মিটারে সক্রিয় করার জন্য ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের একটি দীর্ঘ টোকেন তৈরি হয়। তবে পরবর্তী বা দ্বিতীয়বার রিচার্জের ক্ষেত্রে আগের মতোই সাধারণ ২০ ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করা যাবে। ২২০ ডিজিটের বড় টোকেন মিটারে প্রবেশ করানো গ্রাহকদের জন্য কষ্টকর হওয়ায় ডিপিডিসি এই মিটারগুলোকে পর্যায়ক্রমে অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে ডিপিডিসিতে ‘এএমআই’ (AMI) প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে কোনো ম্যানুয়াল টোকেন টাইপ করার প্রয়োজন হয় না। এই মিটারগুলো বিকাশ, রকেটসহ যেকোনো অনলাইন মাধ্যমে অত্যন্ত সহজে রিচার্জ করা যায়।
‘ভূতুড়ে বিল’ বা অতিরিক্ত টাকা
ডিপিডিসির দাবি, প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল বা তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ কাটার কোনো কারিগরি সুযোগ প্রিপেইড মিটারে নেই।
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়কে ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ে মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। মিটার নেগেটিভ ব্যালেন্সে সচল থাকে এবং পরবর্তীতে রিচার্জের সময় সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়।
সমস্যা হলে অভিযোগ
প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, অভিযোগ কেন্দ্র অথবা ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬-এ যোগাযোগ করা যাবে।



