Advertisement

মুনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতালে দখল নিয়ে সংঘর্ষ, অচল চিকিৎসাসেবা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
মুনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতালে দখল নিয়ে সংঘর্ষ, অচল চিকিৎসাসেবা
উত্তরার শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর উত্তরার শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

Advertisement

বুধবার (১২৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল বলে দেখা যায়। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা যায়। জরুরি বিভাগেও স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে সংঘর্ষের সময় পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গভর্নিং বডির নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক পদ এবং হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-সমর্থিত একটি পক্ষ এবং পূর্বে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে থাকা আরেকটি পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাক্‌বিতণ্ডা, পরে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে বহিরাগত ব্যক্তিরা হাসপাতালের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে হাসপাতালের অধ্যক্ষ, চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর পর হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নতুন একটি পক্ষের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভিন্ন দুটি গ্রুপের সমর্থক বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের পর হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগের রোগীদের অনেককে চিকিৎসাসেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হয়। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা জরুরি রোগীদেরও হাসপাতালের ফটক থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন মোছা. রাশিদা বলেন, ‘বহিরাগতরা হাসপাতালের গেট ও জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। পরে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হয়। আমার মেয়ের অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।’

বন্ধ অধ্যক্ষের কার্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট
বন্ধ অধ্যক্ষের কার্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আরেক রোগীর স্বজন ইসরাত জাহান স্মৃতি বলেন, ‘মায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে দেখি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। নিরাপত্তার জন্য আমরা পাশের একটি হোস্টেলে আশ্রয় নিই। পরে হাসপাতালে ঢুকে দেখি চিকিৎসক-নার্স নেই। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে চলে যাচ্ছি।’

হাসপাতালটির ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল কাদির অভিযোগ করেন, বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে কয়েকটি পরিচয়পত্র জব্দ করেছেন, যেগুলোতে কোনো নাম বা ছবি ছিল না।

ঘটনার পর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষ, অধ্যক্ষের কার্যালয়সহ একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযোগে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।