চুরিতে গুলশান, খুন-ধর্ষণ-ছিনতাই বেশি রাজধানীর যে এলাকায়

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের ধরনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নথিভুক্ত মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চুরির ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে গুলশান বিভাগ। আবার খুন, ছিনতাই-ডাকাতি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ওয়ারী বিভাগে।
ডিএমপির আট বিভাগের ৫০ থানার নথিভুক্ত মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক সমকাল।
সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে রাজধানীজুড়ে মোট ১০ হাজার ৯০৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৭০ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৯৬টি মামলা নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ওয়ারী বিভাগ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীতে ১৬৮টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারী বিভাগে ৩৪টি, মিরপুরে ২৬টি এবং তেজগাঁওয়ে ২২টি মামলা হয়েছে। গত বছরও খুনের ঘটনায় ওয়ারী বিভাগ শীর্ষে ছিল।
ধর্ষণের মামলাতেও ওয়ারী এগিয়ে। আট মাসে এই বিভাগে ৮৯টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মিরপুরে হয়েছে ৭৪টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাও ওয়ারীতে সবচেয়ে বেশি- ২১২টি। মিরপুরে ১৭৬টি ও মতিঝিলে ১৪৫টি মামলা হয়েছে।
ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায়ও সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ওয়ারী বিভাগে। আট মাসে এ বিভাগে ৫০টি মামলা হয়েছে। এরপর মতিঝিলে ৩৯টি, গুলশানে ২৫টি এবং রমনা ও উত্তরায় ২৪টি করে মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১৬৮টি মামলা হয়েছে গুলশান বিভাগে। উত্তরা ও মতিঝিল বিভাগে ১৬৩টি করে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ারীতে ১৪৯টি, তেজগাঁওয়ে ১৪১টি, মিরপুরে ১৩৮টি ও রমনায় ১৩২টি চুরির মামলা হয়েছে।
অপহরণের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে মতিঝিল বিভাগ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ২৭টি মামলা হয়েছে। গত বছরও এই বিভাগে অপহরণের মামলা সবচেয়ে বেশি ছিল।
ডিএমপির হালনাগাদ তালিকায় রাজধানীতে ১ হাজার ৩৮৭ জন ছিনতাইকারীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারী বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩০৮ জন। তেজগাঁও ও উত্তরা বিভাগে ২৪০ জন করে এবং মতিঝিলে ১৬৮ ছিনতাইকারীর নাম রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়ারী ও মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকায় অপরাধ করে দ্রুত আত্মগোপন বা ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বাস টার্মিনাল, লেগুনা স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প থাকায় অপরাধীদের চলাচল ও আশ্রয় নেওয়াও তুলনামূলক সহজ।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, মিরপুরে নিম্ন আয়ের ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। এ কারণে এ এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বেশি দেখা যায়।
উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, দক্ষিণখান ও উত্তরখান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে ভাসমান মানুষের সংখ্যাও বেশি। অনেক সময় চুরি করে অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের শাসনের ঘাটতি থাকলে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক অনুশাসন কার্যকর করাও জরুরি। রাজনৈতিক আধিপত্য, অপরাধকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার এবং নারী-শিশুর সুরক্ষায় ঘাটতিও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
