ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার ফাঁদ, বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকার লুট

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন, এরপর রোগ-ব্যাধি ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের নামে বাসায় গিয়ে কৌশলে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করত একটি চক্র। এমন অভিনব প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ফকিরটিলা এলাকার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) এবং মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)। গত ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল ছাতকের ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, প্রতারক চক্রটি ফেসবুক পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে দুরারোগ্য রোগ, পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য সমস্যা ও নানা দুর্ভোগের সমাধানের আশ্বাস দিত। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে কথিত কবিরাজরা চিকিৎসার নামে ভুক্তভোগীর বাসায় যেত এবং ঝাড়-ফুঁকসহ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করত।
একপর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সব স্বর্ণালংকার একত্র করতে বলা হতো। পরে সেগুলো রুমালে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে রাখা কিংবা সেই পানি ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছিটানোর মতো নানা কৌশল দেখানোর সময় ভুক্তভোগীর অজান্তেই স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।
এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় একজন ভুক্তভোগী গত ২ জুলাই প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং চক্রটির কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের ছাতকে অভিযান চালিয়ে প্রথমে জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ মিয়াকেও আটক করা হয়।
অভিযানের সময় জিয়াসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে একটি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই প্রতারণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।



