logo

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার পরিস্থিতি কী

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার পরিস্থিতি কী
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। তবে কয়েকদিন ধরে শহরটিতে দূষণের মাত্রা ওঠানামা করছে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, দূষণের মাত্রায় ঢাকার স্কোর ১৬৪। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরের তালিকায় ঢাকা আজ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। এই শহেরর বায়ুমানের স্কোর ১৮৮। আর দশম অবস্থানে থাকা দেশটির আরেকটি শহর কলকাতার স্কোর ১২৪। দিল্লির বাতাসের চেয়ে কলকাতার বাতাসে দূষণের মাত্রা অনেকটা কম রয়েছে।

১৬০ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এই শহরের বায়ুমানের স্কোর অস্বাস্থ্যকর হলেও দেশটির আরেকটি শহর করাচির বাতাস অনেকটা ভালো। তালিকার ১৫তম অবস্থানে এই শহরের বায়ুমানের স্কোর ৮৬।

একই সময়ে আরও কয়েকটি শহরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। এগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, কঙ্গোর কিনসাসা, চীনের চেংডু, ভিয়েতনামের হেনোয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এমন শহরের মধ্যে রয়েছে- উগান্ডার কামপালা, চিলির শান্তিয়াগো, সৌদি আরবের রিয়াদ, চীনের উহান, নেপালের কাঠমান্ডু।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।

দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।