তাহসিফের মৃত্যু: অবশেষে মামলা করলেন বাবা

রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা কে এম জসিম উদ্দিন করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামলার এজাহার ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ সৌরি। এরপর রাত গভীর হলেও তিনি বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার মা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান।
পরিবারের দাবি, রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে তার মায়ের ফোনে তাহসিফের মোবাইল নম্বর থেকে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। সেখানে তিনি ‘রওনা দিচ্ছি, আসিতেছি’ বলে জানান। তবে এরপর রাত পেরিয়ে সকাল হলেও তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
পরে ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে উত্তরখান এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানানো হয়, তুরাগ নদী থেকে কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উত্তরার ২২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে তাহসিফের বাবা থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি ছেলের বাসা থেকে বের হওয়া, পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তুরাগ নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বাদী কে এম জসিম উদ্দিন করিমের দাবি, তার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা- তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পাশাপাশি যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাবার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সকালে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলের তথ্যসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি হাবিবুর রহমান।


